ঢাকা বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

Popular Bangla Online News Portal

রাজশাহী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত


super admin
১৭:১৪ - বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
রাজশাহী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে ভোগান্তিতে পড়েন রোগী ও স্বজনেরা। বুধবার হাসপাতালে

চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট নিরসনসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। আজ বুধবার সকাল আটটা থেকে তাঁদের এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় দূরদূরান্তের রোগী ও স্বজনেরা ভোগান্তিতে পড়েন।

হাসপাতালে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে এসেছেন মুক্তা আক্তার। তাঁর বাবা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসক না থাকায় এবং ওষুধের ব্যবস্থাপত্র না পেয়ে বিপাকে পড়েন বলে জানান তিনি। মুক্তা বলেন, ‘এখন আমরা কী করব? আমার বাবাকে কী খাওয়াব, কোন ওষুধ দেব?’

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে আছে—প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদার, রোগীর স্বজনদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা।


দুপুরে কর্মবিরতির কারণ ও দাবিদাওয়া তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা বেতন বাড়ানোর জন্য তাঁরা কর্মবিরতি ডাকেননি। দুই থেকে তিন মাস ধরে হাসপাতালে ক্যানুলা, মাইক্রোপোর, সাধারণ স্যালাইন ও সিরিঞ্জের মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট চলছে। খিঁচুনিতে আক্রান্ত নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী ওষুধও অনেক সময় হাসপাতালে পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে ওষুধ আনতে গিয়ে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় রোগী ও স্বজনদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও হুমকির মুখে পড়ছেন।

সংগঠনটির সভাপতি শাহাদাত মাহমুদ বলেন, ১ হাজার ৩০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ ও ওষুধের সরবরাহ নির্ধারিত শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী আসে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসাসামগ্রী ও জনবলের সংকট তৈরি হচ্ছে। অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু না থাকায় ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপ আরও বাড়ছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বলেন, সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানালেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দাবিগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।