ঢাকা শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬

Popular Bangla Online News Portal

দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেলেন নারী, এক মাস পর জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা


Abul Bashar Howlader
১৭:৩১ - শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেলেন নারী, এক মাস পর জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

ছবি: chatgpt থেকে

দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেলেন নারী, এক মাস পর জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। এক মাস পর প্রথমবারের মতো নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে থাকার বিরলতম ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাঁকে পেন্টোবারবিটাল (Pentobarbital) নামের শক্তিশালী ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু দুইবার ইনজেকশন দেওয়ার পরও তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস চলতে থাকে। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মৃত্যুর অপেক্ষা থেকে হাসপাতালের বিছানায়

ক্রিস্টা পাইক তাঁর আইনজীবীদের মাধ্যমে দেওয়া প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্যে জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন তিনি মৃত্যুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন।

তিনি বলেন, তিনি নিজের পরিণতি মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক দিন পর হাসপাতালের বিছানায় তাঁর জ্ঞান ফেরে। তখন তিনি ছিলেন বিভ্রান্ত ও অসুস্থ। শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছিলেন।

তাঁর ভাষায়, হাসপাতালের বিছানায় জেগে ওঠার পর থেকে এমন কোনো মুহূর্ত যায়নি, যখন তিনি ব্যথামুক্ত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা তাঁকে গভীরভাবে আহত করেছে।

কেন ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি?

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইনজেকশন দেওয়ার সময় শিরায় ওষুধ প্রবেশ করাতে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। ফলে ওষুধের পর্যাপ্ত অংশ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে শরীরের আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়েছিল।

এ ছাড়া ওষুধের গুণগত মান, সংরক্ষণ ও প্রয়োগপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ঠিক কী কারণে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

কেন তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল?

১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন ক্রিস্টা পাইক। ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম স্থগিত

ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি অঙ্গরাজ্যে ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম স্থগিত করেন। পাশাপাশি পুরো ঘটনা তদন্তে স্বাধীন পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।

ক্রিস্টা পাইকের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি, চিকিৎসাব্যবস্থা এবং মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, বিবিসি।