ঢাকা মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬

Popular bangla online news portal

করণিক থেকে রাষ্ট্রপতি হলেন দ্রৌপদী মুর্মু


super admin
১২:৫৫ - শুক্রবার, জুলাই ২২, ২০২২
করণিক থেকে রাষ্ট্রপতি হলেন দ্রৌপদী মুর্মু

সরকারি অফিসের কেরানি, স্কুলশিক্ষিকা, কাউন্সিলর, বিধায়ক, মন্ত্রী, রাজ্যপাল থেকে ভারতের রাষ্ট্রপতির আসনে বসতে যাচ্ছেন সাঁওতাল পরিবারে জন্ম নেওয়া দ্রৌপদী মুর্মু।

                                    বিজেপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মুর্মু সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নারী। এর আগে তিনি ঝাড়খন্ড রাজ্যের গভর্নর ছিলেন। রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে একজন আদিবাসী নারীকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিরোধীদের মধ্যে ভাঙন ধরাতে পেরেছে বিজেপি।

দ্রৌপদী মুর্মুর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিরোধীরা দাঁড় করায় ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিজেপির একসময়ের শীর্ষ নেতা যশোবন্ত সিনহাকে। তাঁকে সমর্থন দেয় কংগ্রেসসহ ভারতের ৩৪টি বিরোধী দল। কিন্তু এসব দলের অনেক নেতা দলীয় নির্দেশ অমান্য করে মুর্মুকে ভোট দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।   

  খানিকটা ‘লো-প্রফাইলের’ এই রাজনীতিবিদ আধ্যাত্মিকতায় প্রচণ্ডভাবে বিশ্বাসী এবং তিনি নিয়মিত নিষ্ঠার সঙ্গে ‘ব্রহ্মা কুমারিস’ ধ্যান কৌশল অনুশীলন করেন।

২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে স্বামী, দুই ছেলে, মা এবং ভাইকে হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া দ্রৌপদী জীবনে ফিরতে ওই ধ্যান অনুশীলন শুরু করেন বলে জানায় এনডিটিভি।

এ বিষয়ে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দূরদর্শনে এক সাক্ষাৎকারে দ্রৌপদী বলেছিলেন, ‘‘আমি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম এবং গভীর হতাশায় ভুগছিলাম। ২০০৯ সালে ছেলের মৃত্যুর পর থেকে আমি রাতে ঘুমাতে পারতাম না। ‘ব্রহ্মা কুমারিস’ ভ্রমণের পর আমি বুঝতে পারি আমাকে এগিয়ে যেতে হবে এবং আমার বাকি দুই ছেলে এবং মেয়ের জন্য বেঁচে থাকতে হবে।”

গত ২১ জুন বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ থেকে দ্রৌপদীকে তাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়। এতবড় সুযোগ পাওয়ার পরও তিনি জনসম্মুখে কোনো বিবৃতি দেননি।

তবে তিনি নির্বাচনী প্রচারের জন্য পুরো দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং প্রতিটি রাজ্যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন বলে জানায় এনডিটিভি।

গ্রাম প্রধানের মেয়ে দ্রৌপদী ওড়িশার রাজধানী ভূবনেশ্বরের রামাদেবী উইমেন্স কলেজে লেখাপড়া করেছেন।

রাজ্য সরকারের একজন কেরানি হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যের কৃষি ও জ্বালানি অধিদপ্তরে একজন জুনিয়র এসিস্টেন্ট হিসেবেও কাজ করেছেন।

 দ্রৌপদী মুর্মু ১৯৫৮ সালের ২০ জুন ওড়িশার ময়ুরভঞ্জ জেলার বাইদাপোসি গ্রামে বিরাঞ্চি নারায়ণ টুডুর কাছে একটি সাঁওতালি উপজাতি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এবং দাদা উভয়েই পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার অধীনে গ্রামের প্রধান ছিলেন।

দ্রৌপদী মুর্মু শ্যাম চরণ মুর্মুকে বিয়ে করেছিলেন। এই দম্পতির দুটি ছেলে ছিল যারা উভয়ই মারা গেছে এবং একটি মেয়ে আছে।